https://www.a1news24.com
১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৫

গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ‘জুলাই জাগরণী’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জুলাই গণহত্যার বিচার, আহতদের সুচিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবী

গণ-অভ্যুত্থানের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সারাদেশে জুলাই গণহত্যার বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সহ ৩ দফা দাবিকে সামনে রেখে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় সমাপনী সমাবেশ “জুলাই জাগরণী” আয়োজন করা হয়। উক্ত আয়োজনে বক্তব্য রাখেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, নারী মুক্তি কেন্দ্রে সভাপতি সীমা দত্ত, শহীদ আহনাফের গর্বিত মাতা জারতাজ পারভীন, শহীদ ফারহানের পিতা শহীদুল ইসলাম, শহীদ গোলাম নাফিজের পিতা গোলাম রহমান, শহীদ আলভীর মাতা সালমা বেগম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক,ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি শাহিনুর সুমি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারন সম্পাদক মারুফ ভুইয়া। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, সমগীত, কোরাস, নাভিন মুর্শিদ, মাহা ও ওয়ারদার গান, অনিন্দ্য বিশ্বাস, কুহক, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (বাকৃবি শাখা), জুলাই প্রবাহ (ময়মনসিংহ শাখা) প্রমুখ। এ আয়োজনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে শহীদদের ছবি সংবলিত স্মারক তুলে দেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আয়োজনের শুরুতেই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে কত প্রাণ হলো বলিদান..’ গানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শুরু হয়।

গোলাম নাফিজের বাবা গোলাম রহমান বলেন, “যে পিতা ছেলের লাশ কবরে নিয়ে গিয়েছে, তার চাওয়া এই সরকার বুঝে নি, শুনতে চায় না। গণহত্যার বিচারের জন্যে শহীদ পরিবারের সদস্যদের আন্দোলন করতে হচ্ছে, দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে। আমরা আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাই না। আমরা চাই, গণহত্যার বিচার। প্রথমে বিচার, তারপর সংস্কার, তারপর নির্বাচন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আপনারা লড়াই ছাড়বেন না।”

শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের জন্যে আমার ছেলে জীবন দিয়েছে। অথচ সরকারের সেই দিকে যাত্রা দেখছি না।”

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত বলেন, “অভ্যুত্থানে নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। কিন্তু এখন নারীবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, নারী নিপীড়ন চলছে। নারীদেরকে যথাযথ সুযোগ ও মর্যাদা না দিয়ে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ সম্ভব নয়।”

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “শহীদ এবং আহতদের পরিবার নানান ধরনের বিপদে আছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে এক বছর পরও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা হয় নি। শহীদ এবং আহতদের পরিবারগুলো অবহেলিত হচ্ছে। অথচ সরকারের দায়িত্ব ছিল এই পরিবারগুলোর যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা।

আমরা দেখছি, চিহ্নিত অপরাধীরা দেশ ছেড়ে পালানোর সুযোগ পেয়েছে। গণহত্যার বিচারের নামে পাইকারি মামলা, মামলা বাণিজ্য, গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে। ফলে হত্যামামলাগুলো গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। জুলাইয়ের নামে ব্যবসা চলছে, চাঁদাবাজি, মব ভায়োলেন্স, নিয়োগ বাণিজ্য, নারী নিপীড়ন চলছে। এসব দমন করতে না পারলে শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”

বাসদ (মার্কসবাদী) ‘র কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “অভ্যুত্তানের গ্রাফিতি ও দেয়ালের লেখাগুলোই ছিল আমাদের জুলাই ঘোষণা। দেয়ালের কথাগুলো বাস্তবায়নের পথ সরকার প্রসারিত করবে এটাই ছিল চাওয়া, যা এখনও হয় নি।

হাসিনা সরকারের পতন মানেই ফ্যাসিবাদের পতন নয়। আওয়ামী লীগ দেশি-বিদেশি ধনিক শ্রেণীর স্বার্থে যেই কায়দায় রাষ্ট্র চালাতো, একই কায়দায় রাষ্ট্র চালিয়ে ফ্যাসিবাদ পতন সম্ভব নয়। আওয়ামী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে সরে আসতে হবে। জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এটাই ছিল অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা। অথচ এখনো গোপন চুক্তিগুলো উন্মোচন বা বাতিল তো হয় নি। বরং নতুন করে জনস্বার্থ বিরোধী গোপন চুক্তি করা হচ্ছে।

বারবার ঠকেছি বলে লড়াই করে লাভ নাই। এ কথা ঠিক নয়। নিজস্ব রাজনৈতিক হাতিয়ারের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে। যুবক তরুণদের কাছে আহ্বান, শহীদ মায়ের আর্তনাদ, বাবার কান্না, বোনের হাহাকারকে আপনারা বৃথা যেতে দিবেন না। শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই গড়ে তোলার মধ্যেই শহীদদের স্মরণ, অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির সফলতা নিহিত রয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে সালমান সিদ্দিকী বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে শহীদ পরিবার এবং জনগণের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ শহীদদের স্মরণ মানে শুধু স্মৃতিচারণ নয়, নতুন সময়ের লড়াইয়ের জন্যে সংগঠিত হওয়ারও প্রয়োজন। শহীদদের কাঙ্ক্ষিত আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের লড়াই জারি রাখতে হবে।”

আরো..