প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।”তিনি বলেন, “মানুষের উপকার হয়— এমন সব কাজ করে আসছে বিএনপি।
সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা জানি বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে থাকেন। কৃষির সঙ্গে অনেকে জড়িত। আমরা বিশ্বাস করি কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এজন্য আমরা মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষিঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।”
তিনি বলেন, “মধ্যেপ্রচ্যে যুদ্ধের কারণে অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে, তারপরও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।”
এর আগে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলো।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ কর্মসূচি শুরু করেছেন। জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।