লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই, ইউকে ডিফেন্স জার্নালসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েতে একটি সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি একটি এফ–১৫। তবে দুই পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতা।
ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানটি আমেরিকান বলেই জানা যাচ্ছে। তবে এটি ভূপাতিত করা হয়েছি নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।
এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন এবং এফ-১৫ ঈগল মার্কিন বিমানবাহিনীর দুই ভিন্ন ঘরানার শক্তি, যাদের মূলত ‘হাই-লো’ রণকৌশলের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এফ-১৬ হলো একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট সাশ্রয়ী বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশযুদ্ধ থেকে শুরু করে মাটিতে নিখুঁত হামলায় পারদর্শী। এর বিশেষত্ব হলো এর ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ কন্ট্রোল সিস্টেম এবং পাইলটের জন্য ৩৬০ ডিগ্রি দেখার সুবিধাসম্পন্ন বাবল ক্যানোপি। ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার গতিবেগের এই যুদ্ধবিমান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফাইটার প্লেন।
অন্যদিকে, এফ-১৫ ঈগল হলো আকাশপথে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখার জন্য তৈরি একটি বিশালাকার ও দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এটি এফ-১৬-এর তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় উঠতে পারে এবং প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৫৫ কিলোমিটারের বেশি এবং আকাশযুদ্ধে এর সাফল্যের রেকর্ড এখন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
দামের ক্ষেত্রেও এই দুটি যুদ্ধবিমানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এফ-১৬-এর সর্বাধুনিক ‘ব্লক ৭০/৭২’ ভ্যারিয়েন্টের প্রতি ইউনিটের দাম বর্তমানে প্রায় ৬৩ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। বিপরীতে, এফ-১৫-এর আধুনিকতম সংস্করণ ‘এফ-১৫ইএক্স ঈগল ২’—এর দাম আকাশচুম্বী, যা প্রতি ইউনিটে প্রায় ৯৪ থেকে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
মূলত নির্মাণশৈলী, রাডার প্রযুক্তি এবং অস্ত্র বহনের ক্ষমতার কারণেই এই দুই বিমানের বৈশিষ্ট্য ও মূল্যে এত তফাত দেখা যায়। লকহিড মার্টিন এবং বোয়িংয়ের দেওয়া তথ্যসূত্র অনুযায়ী, এফ-১৬ যেখানে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী সমাধান, এফ-১৫ সেখানে আকাশযুদ্ধের এক চূড়ান্ত ও ব্যয়বহুল অস্ত্র।