https://www.a1news24.com
৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:৩৮

কুড়িগ্রামে অবৈধ ইটভাটায় বিপর্যস্ত, ফসলহানি, দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জনজীবন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রামঃ উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম এক ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি-অবৈধ ইটভাটার ছয়লাভ এ জনপদ। এসব ইটভাটার দাপটে নষ্ট হচ্ছে উর্বর ফসলি জমি, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আর চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন শিশু থেকে বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনবিহীন বহু ইটভাটা নিঃসন্দেহে কৃষির ক্ষতি ডেকে আনছে। কালো ধোঁয়া, ছাই আর তীব্র তাপের কারণে আশপাশের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ১০৮টি। এর মধ্যে বৈধ ইটভাটা রয়েছে ৩৮টি। অবৈধ ইটভাটা ৭০টি। তবে গত এক বছরে প্রায় ১৫টি ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

কৃষকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে যে জমিতে ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ফলত, আজ সেগুলি ইটভাটার আগুনের তাপে অনুর্বর হয়ে পড়ছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা জলবায়ু কর্মী সুজন মোহন্ত বলেন,’ বৈধ ইটভাটা গুলো অনেক ক্ষেত্রে শর্ত ভঙ্গ করছে,পরিবেশ অধিদপ্তর এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেবে এই প্রত্যাশা।’

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকটি ভাটা সিলগালা করা হয়েছে, বাকি গুলোও বন্ধ করতে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকালও আমরা নাগেশ্বরী উপজেলাতে দুইটি ইটভাটাতে অভিযান চালিয়ে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ভাটা গুলো নীতিমালা উপেক্ষা করে,যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে। কি ভাবে তারা অনুমোদন পেল তা আমার বোধগম্য নয়। তার পরেও জেলা প্রশাসনের অভিযানে অনেক ইট ভাটার জরিমানা ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকে লাইসেন্সের ক্রুটি থাকলেও হাইকোর্টে রিট করে চালাচ্ছে। বস্তুত, ইটভাটা গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কোন মালিকেই আমাদের কথা শোনে না।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলায় যেসব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে সেগুলো শতভাগ বন্ধ করা হবে।

আরো..