বিনোদন প্রতিবেদক: যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত জেফরি এপস্টেইনের নতুন লাখ লাখ নথি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় তিনি। তবে অনেক আগে থেকেই তাকে নিয়ে কাজ করেছেন নির্মাতা। জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র, আসছে একাধিক সিরিজ। জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান। যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে নারীদের পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় বিচারকাজ চলা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
‘জেফরি এপস্টেইন : ফিলথি রিচ’
এপস্টেইনকে নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত এবং বহুল আলোচনার জন্ম দেওয়া তথ্যচিত্র সিরিজ হলো নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘জেফরি এপস্টেইন : ফিলথি রিচ’। এই সিরিজে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী নারীদের অভিজ্ঞতার ওপর। তাদের মুখে শোনা যায় কীভাবে কিশোরী বয়সে তারা প্রলোভন, ভয়ভীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন।
‘সারভাইভিং জেফরি এপস্টেইন’
এই মিনি সিরিজটি দেখা যাচ্ছে অ্যামাজন প্রাইমেও। এতে যেখানে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তার ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন অ্যান সুন্দরবার্গ ও রিকি স্টার্ন। চার পর্বের এই তথ্যচিত্র প্রথম প্রচারিত হয় ২০২০ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লাইফটাইমে।
এইচবিওর নির্মিতব্য সিরিজ
হলিউড নির্মাতা অ্যাডাম ম্যাকে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে একটি সিরিজ তৈরি করতে যাচ্ছেন। প্রকল্পটি নির্মিত হবে এইচবিওর জন্য। ভ্যারাইটি জানায়, নাম ঠিক না হওয়া সিরিজটি নির্মিত হবে মিয়ামি হেরাল্ডের অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলি কে. ব্রাউনের বইয়ের ওপর ভিত্তি করে। এপস্টেইন-কাণ্ড নতুন করে সামনে আসার পেছনে জুলি ব্রাউনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বড় ভূমিকা রেখেছিল।
সনিও সিরিজ আনছে
প্রযোজনা সংস্থা সনি পিকচার্সও জেফরি এপস্টেইন-কাণ্ডকে ঘিরে সিরিজ তৈরি করছে। এ প্রকল্পের ভিত্তি হবে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী কনচিতা সারনফের বই ‘ট্রাফিকিং’। প্রকল্পের জন্য বর্তমানে একজন চিত্রনাট্যকার যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে সনি টিভি। এরপরই সিরিজটি বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সনি পিকচার্স টেলিভিশনের লিমিটেড সিরিজ ও টিভি মুভিজ বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট টম প্যাট্রিসিয়ার উদ্যোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এ বিষয়ে বাংলায় সিনেমা হয়নি
বিশ্বজুড়ে আলোচিত এপস্টেইন ফাইলস। প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পড়া এই বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি জানান, পিডোফিলিয়া একটি গুরুতর মানসিক অসুস্থতা। তিনি বলেন, ‘একটা বাচ্চা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে মায়া জন্মায়, স্নেহ জন্মায়। কিন্তু কিছু মানুষের শিশুদের দেখলে যৌন আকাক্সক্ষা জন্মায়। তারা ওই শরীরের ভেতরটা দেখতে চায়। আসলে এটা তো একটা অসুস্থতা।’
তিনি জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বাংলা সিনেমায় এখনও তেমনভাবে কাজ হয়নি। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়া আহসান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই পৃথিবী শিশুদের জন্য অসম্ভব অনিরাপদ। আমি চাইলে কিন্তু সন্তান দত্তক নিতে পারি। তার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বাধা একটাই। একটা শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা করে দিতে হবে। কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ‘আমি আমি’ করে চলছে।”