https://www.a1news24.com
৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:১২

কাউনিয়ায় কাদা পানিতে মাছ ধরাতেই আনন্দ!

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাদায় পা ডুবিয়ে, শরীরজুড়ে কাদা মেখে, কাদাজলে হাঁড়ি ভাসিয়ে অথবা কাঁধে থলি ঝুলিয়ে মাছ ধরা চিরায়ত বাঙালিয়ানা। শুকনো মৌসুমে খাল-বিল-পুকুর শুকিয়ে ধরা হয় দেশি প্রজাতির হরেক রকম মাছ। গ্রামে এখনো এ দৃশ্যের দেখা মেলে। তবে শহরের আশাপাশে দেখা মেলা ভার। সম্প্রতি এভাবে মাছ ধরার চমৎকার দৃশ্যের দেখা মিললো রেলওয়ে স্টেশনের পার্শে হরিশ^র গ্রামে। বর্ষায় যখন নদী-নালার পানি বাড়তে শুরু করে তখন পানিতে ভরে ওঠে খাল-বিল। বর্ষা মৌসুম মাছের বংশবিস্তারের সময়। নতুন পানিতে মাছেরা বেড়ে উঠে আপন গতিতে। শীত মৌসুমে দেশের খাল-বিলের পানি শুকাতে শুরু করে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মাছ ধরা। বাংলাদেশের খালে-বিলে ও বিভিন্ন জলাশয়ে বিশেষ করে এই মাছ ধরা উৎসবে পরিণত হয়। বৃষ্টির পানি কমে যাওয়ায় জলাশয়ে চলছে আনন্দে মাছ ধরা। হরিশ^র এলাকা ঘুরে দেখা গেলো ছোট-বড় সবাই মিলে ডোবাতে মাছ ধরতে ব্যস্ত। ধরাও পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ। ফলে মাছ ধরার কষ্ট ভুলে গিয়ে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে প্রাপ্তির হাসি। কেউ খলাই, কেউ পাতিল ও থলি নিয়ে নেমে পড়েছে মাছ ধরতে। শিশুরাও বাদ নেই এ আনন্দ থেকে। কাদাজলে শরীর ডুবিয়ে মাছ ধরছে তারা। কাদামাখা মাছে যখন পানি ঢালা হলো তখন চকচক করে উঠলো মাছগুলোর শরীর। চক চক করে উঠলো মাছ ধরতে যাওয়া সবার চোখ-মুখও। শোল, টাকি, পুঁটি, গচি, মলা, কই, শিং প্রভৃতি দেশি সুস্বাদু মাছে থলে ভরলে কার না মন ভালো হয়ে যায়! অনেকে বলছেন আগে অনেক বেশী মাছ পাওয়া যেত কিন্তু বর্তমানে দেশে চায়না দুয়ারী কারেন্ট ও রিং জালের ফলে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। গ্রামীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে দুয়ারী কারেন্ট ও রিং জাল বন্ধ করতে প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন।

আরো..