https://www.a1news24.com
৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৪৭

ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত, গুরুতর আহত ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কুয়েতে। রবিবার (১ মার্চ) সকালে দেশটির একটি বেসামরিক বন্দরে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর এক অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (২ মার্চ) এ খবর নিশ্চিত করেছে সিএনএন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোমবার বিকেলে জানায়, শুয়াইবা বন্দরে ওই হামলার ঘটনায় নিখোঁজ আরও দুই সেনার মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সোমবার সকালে জানান, সুরক্ষিত একটি ‘ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে’ এই হামলা চালানো হয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে একটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) সরাসরি ভবনটির ওপর আঘাত হানে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এটিকে ড্রোন হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর একটি ট্রিপল-ওয়াইড ট্রেলার বা অস্থায়ী কার্যালয়ের ঠিক মাঝখানে সরাসরি আঘাতটি আসে। হামলাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে কোনো সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজানোর সময় পাওয়া যায়নি। ফলে সেনারা বাংকারে আশ্রয় নেওয়া বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরও ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল এবং বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় দেয়ালগুলো দুমড়ে-মুচড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।

রবিবার সকালে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বন্দরের একটি ভবন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। সেন্টকম শুরুতে ৩ জন নিহতের কথা বললেও পরে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে কয়েক ডজন লোক উপস্থিত থাকলেও ধ্বংসস্তূপ ও আগুনের কারণে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হয়।

গত শনিবার ভোরে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে এটিই প্রথম মার্কিন প্রাণহানির ঘটনা। প্রতিরক্ষাসচিব হেগসেথ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই সতর্ক করেছেন যে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেন্টকমের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

যুগ্ম সেনাপ্রধানের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং নিঃস্বার্থ সেবার অনন্য উদাহরণ। আমরা তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই; আমরা তাদের ত্যাগের কথা কখনোই ভুলব না।

নিহত সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি, কারণ বর্তমানে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র: সিএনএন

আরো..