আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসে বার্ষিক ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণে দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ড গড়েছেন। এটি দেশটির ইতিহাসে কংগ্রেসে কোনো প্রেসিডেন্টের দেওয়া দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ড।
বুধবার রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ধরে কথা বলেছেন।বিবিসি জানিয়েছে, এর আগে ২০০০ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দীর্ঘতম ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এবার ট্রাম্প তাকে ছাড়িয়ে গেলেন।
ভাষণে ট্রাম্প বারবার তার অর্থনৈতিক কর্মসূচীর কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, হোয়াইট হাউজে ফেরার পর প্রথম বছরে তিনি ‘কয়েক যুগের ব্যর্থতা” থেকে অর্থনীতিকে ‘অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বদলে দেওয়ার’ বিষয়টি তদারক করেছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রথম বছরে ট্রাম্প পররাষ্ট্র নীতির ওপর ব্যাপকভাবে মনোনিবেশ করলেও ভাষণে আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে শুধু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে যে সংঘাত আসন্ন বলে মনে হচ্ছে তা নিয়ে ভাষণের প্রায় ৯০ মিনিট পর্যন্ত তিনি কোনো কথা বলেননি। এরপর জানান, ইরানের সঙ্গে সমস্যাটি ‘কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতেই পছন্দ করবেন’ তিনি; কিন্তু তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি জানান।
তিনি দর্শকদের মধ্যে থাকা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বারবার তর্কে জড়িয়েছেন, কিন্তু হাউজে উপস্থিত সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের তাদের সাম্প্রতিক শুল্ক বিষয়ক রায়ের জন্য সরাসরি কোনো অনুযোগ করেননি।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেল স্পেনবার্গার ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলির ‘কোনো বাস্তব সামধান নির্দেশ করেননি’।
এমন এক সময় ট্রাম্প তার ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণটি দিলেন যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের জরিপগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে তার এবারের মেয়াদের কর্মসূচীগুলো নিয়ে আমেরিকান ভোটাররা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।
ভাষণের প্রায় পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্প তার লিখিত বক্তব্য অনুসরণ করে গেছেন, যা তার জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি ভাষণ দেওয়ার সময় মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বা ভিন্ন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত। তিনি সাধারণত প্রস্তুত করা বক্তব্য থেকে সরে যান। কিন্তু এবার তিনি লিখিত মূল বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করে সেগুলো সুগঠিতভাবে উপস্থাপন করেছেন।