https://www.a1news24.com
১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:১৪

অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হলে চরম খেসারত দিতে হবে: দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে। ভালো নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাজারের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক আছে তারা জানেন, বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা বলে এখন আর কিছু নেই। ড. ইউনূস রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে তার একটি ধারণা থাকার কথা। তারপরও আমরা সেই বিষয়টি বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা করলেও তার কোনো মীমাংসা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, এই সরকার আর খুব বেশিদিন নেই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর এক মাসেরও কম সময় বাকি আছে। জাতীয় সংসদের নির্বাচন হলে পরপরই দেশে একটি সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার যদি দেশপ্রেমিক হয়, যদি মানুষের অনুভূতি ধরতে পারে, তাহলে দেশ সমৃদ্ধিশালী হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। এই কারণে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই নির্বাচনে যদি আমরা ভুল করি, তাহলে সরকার ভুলের খেসারত দেবে, দেশবাসী ভুলের খেসারত দেবে, দেশের স্বাধীনতা সর্বসম্মতভাবে হুমকির মুখে পড়বে। 

সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সে কারণে আসুন, নির্বাচনকে ভালো করার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, তার মধ্যে অন্যতম হলো মানুষ যেন নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে ও নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি, মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি, ভোট হয়ে গেছে আগেই। শেখ হাসিনা দাবি করতেন তিনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। আমরা বলি, সেই তিনটি নির্বাচন ছিল তামাশার নির্বাচন।

দেশবাসীসহ সারা বিশ্ব দেখেছে, ওগুলো কোনো নির্বাচনই ছিল না।
তিনি বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনা আর তার প্রিয় বন্ধু মোদি কিংবা ভারত এই নির্বাচনগুলোকে অনুমোদন করেছে। আজও সেই মোদির দেশেই বাংলাদেশের গণহত্যাকারী, গণধিকৃত শেখ হাসিনা আশ্রয় নিয়েছে।

দুদু বলেন, নির্বাচনের জন্য জরুরি হলো তড়িৎভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকা দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা। সেই কারণে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার বিষয়টি জানে, তারপরও এখনো পর্যন্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, এই অবহেলার কারণেই ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। আমাদের তরুণ ছাত্রনেতা হাদিও এর শিকার হয়েছে। ভালো নির্বাচনের জন্য এখনো যে কয়দিন সময় আছে, সেই সময়কে ব্যবহার করে তড়িৎগতিতে বৈধ ও অবৈধ সব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। শেখ হাসিনার কাছ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র হলেও যেগুলো দলীয়ভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের হাতে আছে, সেগুলোও বিপদজনক। লাইসেন্স থাকলেও এই অস্ত্র জনগণের জন্য হুমকি।

এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়। মানুষকে স্বস্তি দিতে হলে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে এবং আগামী দিনে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে হলেও সরকারকে এই দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করতে হবে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আসুন ভালো নির্বাচনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা জানি, ভালো নির্বাচন হলে এই দেশে যে সরকার আসবে, সেই সরকার হবে শহীদ জিয়ার সরকার। যে সরকার আসবে, সেটি হবে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। সেই জন্য আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি দেশপ্রেমী, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাই।

বিক্ষোভ সমাবেশে এ সময় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরো..